Hall MARS Bhabon, Mogbazar, Dhaka

Message from CEO

সিনেমা একটি পন্য, চাই মার্কেটিং। প্রচার মানেই মার্কেটিং নয়। ফেসবুক লাইফ, টিভি টকশো করলেই সিননেমার মার্কেটিং হয়না। সিনেমা হলে সর্ব সাকুল্ল্যে ৯ এর নিচে দর্শক। কিন্তু ফেসবুকে রিভিউ দেখে মনে হবে সুপার হিট সিনেমা, এসব ভন্ডামি বাদ দিতে হবে, কারণ দিন শেষে প্রযোজকের লগ্নিকৃত টাকা ফিরত আসতে হবে।
 
তারকাদের ফ্রি সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করলে আর তারা সিনেমা দেখার পরে যখন সেলফি পোস্ট করে বলেন একটি দারুন সিনেমা হয়েছে তখন সাধারণ দর্শকরা সেই সেলফি ও ইউটিউব রিয়েকশন দেখে বলে …. বানিয়েছে। বিশ্বাস না হলে মিলিয়ে দেখুন, কোন সিনেমা গুলো সুপার ফ্লোপ হয়েছে।
 
সম্প্রতি হিট তকমা পাওয়া এক সিনেমার বিপনন কর্মকর্তার সাথে বাজি ধরে ছিলাম, বলেছিলাম আপনাদের সিনেমা তো ব্যবসা করেনি, কিন্তু পরিচালক কেনো হিট বলতেছে,,, বাকিটা ইতিহাস!
 
আপনি কোটি টাকার সিনেমা বানাবেন, মার্কেটিং করবেন বিনামুল্যে? নিজের পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ফ্রি সিনেমা দেখাবেন, তারা পোস্ট দিবে, ইউটিউবে আপনার সিনেমা নিয়ে প্রশংসায় ভরে তুলবে।
আপনি জানেন দর্শকরা আপনাকে কি ভাবেন? …. মার্কা ডিরেক্টর, নিজের উপর ভর্সা নাই, দালালী করার জন্য লোক ভাড়া করেছেন।
 
আপনি সেলিব্রেটিদের ফ্রি সিনেমা দেখাবেন, দর্শক কেনো আপনার সিনেমা টাকা দিয়ে দেখবে?
 
সেলিব্রেটিদের ফ্রি সিনেমা দেখান বলেই আপনার সিনেমার দর্শক হয় ৬/৭ জন (প্রতি শোতে)
 
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আগে টিকেট কেটে সিনেমা দেখার অভ্যাস করুন, দর্শক ঠিকই হলে ফিরবে।
 
আমার কথাগুলো অনেকেরই খারাপ লাগবে, কিন্তু যারা আমার পেশা সংশ্লিষ্ট তারা ঠিকই জানেন উচিৎ কথা বললাম।
 
দীর্ঘদিন মিডিয়াতে কাজ করায় একটা জিনিস জানতাম প্রিমিয়ার শো তে থাকবেন সিনেমা সংশ্লিষ্ট ও বিনোদন সাংবাদিকরা। কিন্তু বর্তমানে হয়েছে উল্টা, বিনোদন সাংবাদিক বাদ দিয়ে সেলিব্রেটিদের নিয়ে প্রিমিয়ার শো করা হয়, মনে রাখবেন সিনেমার যথাযথ মুল্যায়নে ৭০% ভুমিকা রাখেন সাংবাদিক ও মিডিয়া।
 
আপনি দেশ সেরা সেলিব্রেটি নিয়ে ক্যাম্পিয়িং করে যা ফলাফল পাবেন তার থেকে বেশি ফলাফল পাবেন একজন শিক্ষানবিশ বিনোদন সাংবাদিকের থেকে।
 
আপনি যদি ফেসবুক রিভিউ আর ইউটিউব রিয়েকশন নিয়ে সুখি থাকেন তাহলে আপনি সেই দর্শকই পাবেন যে আপনার সিনেমা ইউটিউবে দেখার অপেক্ষা করছে।
 
আমরা হল চাই, বিদেশি সিনেমাও দেখতে চাই। যাত্রাপালা চাই, ভালো বাংলা সিনেমা চাই। সব কিছুর আগে টাকা, সেটাও চাই। সিনেমা আপনার কাছে বিনোদন হলেও আমার কাছে পন্য, তাই আমি ব্যবসাহিক চিন্তাই আগে করি।
 
আমরা বাজারে এসেছি বাংলাদেশী সিনেমাকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে। আমরা যেমন নিজেদের সিনেমা নিয়ে কাজ করি তেমনি অন্যের সিনেমাতেও আমরা কাজ করু।সিনেম্যাকিং আসলে চায় কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হোক ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা হোক!
 
জয় হোক চলচ্চিত্রের… বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্ব জয় করুক
মনজুরুল ইসলাম মেঘ
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
সিনেম্যাকিং
১৪ মার্চ ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published.