Cinemaking

Global Screen

About cinemaking

Founding Story

মাধ্যমিক পাশ করার পরেই আমার ইচ্চা হলো শুধু কবিতা, গল্প লেখা-লেখি করে হচ্ছেনা, সিনেমা নির্মান করতে হবে। যদিও সিনেমার ভূত আমার মাথায় আরো আগেই চেপেছিলো। মাধ্যমিক পরিক্ষার পরে ফলাফল প্রকাশের আগে যে সময় টুকু পাওয়া যায় সেই সময়েই আমার গ্রামের ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে নির্মান করলাম ৩ টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, সময় ২০০৮। স্থানীয় ক্যাবল টিভিতে প্রকাশ হবার পরে খুবই ভালো রেসপন্স পেলাম। আগ্রহ বেড়ে গেলো। কিন্তু উচ্চ শিক্ষার বিভোর থাকায় সিনেমার নিশা আমাকে আর এগোতে দিলোনা। ২০১৪ সালে পড়া লেখা শেষ করেই কলেজে জয়েন করলাম। কিন্তু চাকরি ভালো লাগলো না। কারণ পড়ালেখার পাশাপাশি ইতমধ্যেই আমার সাংবাদিকতাও চলছিলো।

২০১৫ সালে, অত্যান্ত সখের বশেই ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমন্বয়ক হিসাবে যোগদান করলাম, পাশাপাশি চললো, স্বলপ্লদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মান ও নানা কর্মশালা এবং শিখার চেষ্টা। বিশ্ব চলচ্চিত্র নিয়ে পড়ালেখা শুরু করলাম, জানার চেষ্টা করলাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সম্পর্কে। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৬,২০১৭,২০১৮ এ সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করলাম। এর মধ্যে উৎসবের তৈমাসিক পত্রিকারও সহকারী সম্পাদক হিসাবে কাজ করলাম, দুটি উৎসবের ক্যাটলগ সম্পাদনা মন্ডলীর সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করলাম।উৎসবের যাবতীয় ডিজাইনও করার সুযোগ পেলাম এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করলাম।

উৎসবের চাকরির পাশাপাশি জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক তৌকীর আহমেদ এর নক্ষত্র চলচ্চিত্রের সাথে কাজ করার অফার পেলালম ২০১৭ সালে। ইতমধ্যেই আমি সিনেম্যাকিং নামে ফেসবুক পেজ তৈরী করে বিশ্বের নানা দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, পরিবেশক ও উৎসব আয়োজকদের সাথে একটা যোগাযোগের সুযোগ হয়েছে এবং কিছুটা পরিচিতি পেয়েছি। নক্ষত্র চলচ্চিত্রের পরামর্শক হিসাবে যোগদান করার পরে আমি দিন রাত পরিশ্রম করে নক্ষত্রের কাজকে এগিয়ে নিতে থাকলাম। “অজ্ঞতনামা” ও “হালাদা” সিনেমা নিয়ে কাজ করলাম।

এর মধ্যেই আসামের গুয়াহাটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পেলাম। প্রথম বার দেশের বাহিরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আমন্ত্রণ আমাকে মুগ্ধ করলো। অংশগ্রহণ করালাম। ততদিনে সিনেম্যাকিং এর মাধ্যমে বহুদেশে পরামর্শক হিসাবে কাজ করে যাচ্ছি। সার্ক চলচ্চিত্র উৎসবের দুইবার বাংলাদেশী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করলাম। ইন্দুস ভেলী আন্তর্জাতিকি চলচ্চিত্র উৎসব দিল্লীর, বাংলাদেশ সম্বন্নয়কের দায়িত্ব পালন করলাম। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত “ফাগুন হাওয়ায়” চলচ্চিত্র নির্মানের সাথে সম্পৃক্ত থাকলাম। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় নানা অভিজ্ঞতা হতে থাকলো। মাঝে কিছুদিন বিটাকম বিজ্ঞাপনী সংস্থাতেও সম্পৃক্ত থেকে অভিজ্ঞতা নিলাম।

২০১৯ সালের জানুয়ারীতে নক্ষত্র চলচ্চিত্র থেকে অবসর নিয়ে সিনেম্যাকিং এর ব্যবসায় আন্তনিয়োগ করলাম। সুযোগ পেলাম ইউরোপের দেশ জর্জিয়ার গোল্ডেন বাটারফ্লাই চলচ্চিত্র উৎসবের দক্ষিন এশিয়া বিষয়ক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনের। সফল ভাবে এই দায়িত্ব পালন শেষে। চলচ্চিত্র উৎসব সমূহেও অংশগ্রহণ করতে থাকলাম এবং বিভিন্ন দেশের সিনেমা অনলােইনে দেখে পরামর্শ ও উৎসবে জমাদিতে সহায়তা করতে থাকলাম। ২০১৯ সালে আসামে ও কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ডেলিগেট হিসাবে আমন্ত্রণ পেলাম, অংশগ্রহণও করলাম।

এতদিনে সিনেম্যাকিং ৩০টির অধিক দেশের ৫০ এর অধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে, পরামর্শক হিসাবে। সফলতার পাল্লাও অনেক ভারি হতে থাকলো। সুযোগ আসলো ৬ষ্ট রাজস্থান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আন্তর্জাতিক জুরী হওয়ার। উৎসবে অংশগ্রহণ করলাম, প্রথম বার জুরী হওয়ার আনন্দ পেলাম।

সিনেম্যাকিং ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হলেও ২০২০ সাল থেকে নির্মান কাজেও সম্পৃক্ত হয়েছে। নানামুখী সেবা প্রদান করে চলছে, সিনেম্যাকিং। আর্ট ডিরেকশন, সাবটাইটেল, পোস্টার ডিজাইন, প্রযোজনা সহযোগী থেকে শুরু করে এ টু জেট সেবা দিয়ে যাচ্ছে সিনেম্যাকিং।

Message 

সিনেমা একটি পন্য, চাই মার্কেটিং। প্রচার মানেই মার্কেটিং নয়। ফেসবুক লাইফ, টিভি টকশো করলেই সিননেমার মার্কেটিং হয়না। সিনেমা হলে সর্ব সাকুল্ল্যে ৯ এর নিচে দর্শক। কিন্তু ফেসবুকে রিভিউ দেখে মনে হবে সুপার হিট সিনেমা, এসব ভন্ডামি বাদ দিতে হবে, কারণ দিন শেষে প্রযোজকের লগ্নিকৃত টাকা ফিরত আসতে হবে।
 
তারকাদের ফ্রি সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করলে আর তারা সিনেমা দেখার পরে যখন সেলফি পোস্ট করে বলেন একটি দারুন সিনেমা হয়েছে তখন সাধারণ দর্শকরা সেই সেলফি ও ইউটিউব রিয়েকশন দেখে বলে …. বানিয়েছে। বিশ্বাস না হলে মিলিয়ে দেখুন, কোন সিনেমা গুলো সুপার ফ্লোপ হয়েছে।
 
সম্প্রতি হিট তকমা পাওয়া এক সিনেমার বিপনন কর্মকর্তার সাথে বাজি ধরে ছিলাম, বলেছিলাম আপনাদের সিনেমা তো ব্যবসা করেনি, কিন্তু পরিচালক কেনো হিট বলতেছে,,, বাকিটা ইতিহাস!
 
আপনি কোটি টাকার সিনেমা বানাবেন, মার্কেটিং করবেন বিনামুল্যে? নিজের পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ফ্রি সিনেমা দেখাবেন, তারা পোস্ট দিবে, ইউটিউবে আপনার সিনেমা নিয়ে প্রশংসায় ভরে তুলবে।
আপনি জানেন দর্শকরা আপনাকে কি ভাবেন? …. মার্কা ডিরেক্টর, নিজের উপর ভর্সা নাই, দালালী করার জন্য লোক ভাড়া করেছেন।
 
আপনি সেলিব্রেটিদের ফ্রি সিনেমা দেখাবেন, দর্শক কেনো আপনার সিনেমা টাকা দিয়ে দেখবে?
 
সেলিব্রেটিদের ফ্রি সিনেমা দেখান বলেই আপনার সিনেমার দর্শক হয় ৬/৭ জন (প্রতি শোতে)
 
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আগে টিকেট কেটে সিনেমা দেখার অভ্যাস করুন, দর্শক ঠিকই হলে ফিরবে।
 
আমার কথাগুলো অনেকেরই খারাপ লাগবে, কিন্তু যারা আমার পেশা সংশ্লিষ্ট তারা ঠিকই জানেন উচিৎ কথা বললাম।
 
দীর্ঘদিন মিডিয়াতে কাজ করায় একটা জিনিস জানতাম প্রিমিয়ার শো তে থাকবেন সিনেমা সংশ্লিষ্ট ও বিনোদন সাংবাদিকরা। কিন্তু বর্তমানে হয়েছে উল্টা, বিনোদন সাংবাদিক বাদ দিয়ে সেলিব্রেটিদের নিয়ে প্রিমিয়ার শো করা হয়, মনে রাখবেন সিনেমার যথাযথ মুল্যায়নে ৭০% ভুমিকা রাখেন সাংবাদিক ও মিডিয়া।
 
আপনি দেশ সেরা সেলিব্রেটি নিয়ে ক্যাম্পিয়িং করে যা ফলাফল পাবেন তার থেকে বেশি ফলাফল পাবেন একজন শিক্ষানবিশ বিনোদন সাংবাদিকের থেকে।
 
আপনি যদি ফেসবুক রিভিউ আর ইউটিউব রিয়েকশন নিয়ে সুখি থাকেন তাহলে আপনি সেই দর্শকই পাবেন যে আপনার সিনেমা ইউটিউবে দেখার অপেক্ষা করছে।
 
আমরা হল চাই, বিদেশি সিনেমাও দেখতে চাই। যাত্রাপালা চাই, ভালো বাংলা সিনেমা চাই। সব কিছুর আগে টাকা, সেটাও চাই। সিনেমা আপনার কাছে বিনোদন হলেও আমার কাছে পন্য, তাই আমি ব্যবসাহিক চিন্তাই আগে করি।
 
আমরা বাজারে এসেছি বাংলাদেশী সিনেমাকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে। আমরা যেমন নিজেদের সিনেমা নিয়ে কাজ করি তেমনি অন্যের সিনেমাতেও আমরা কাজ করু।সিনেম্যাকিং আসলে চায় কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হোক ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা হোক!
 
জয় হোক চলচ্চিত্রের…
বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্ব জয় করুক
মনজুরুল ইসলাম মেঘ
প্রতিষ্ঠাতা, সত্বাধিকারী ও
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
সিনেম্যাকিং
১৪ মার্চ ২০১৯